১২ ভরি স্বর্ণ থাকলে কত টাকা যাকাত দিতে হবে? নাবালেগ সন্তানকে স্বর্ণ দিলে কী বিধান

১২ ভরি স্বর্ণ থাকলে কত টাকা যাকাত দিতে হবে? নাবালেগ সন্তানকে স্বর্ণ দিলে কী বিধান


 একজন গৃহিণীর কাছে ১২ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু স্বর্ণ তিনি বিবাহের মোহরানা হিসেবে পেয়েছেন, আর কিছু পেয়েছেন মা-বাবার কাছ থেকে উপহার হিসেবে। স্বামীর আয় সীমিত হওয়ায় সংসারের খরচ ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত অর্থ অবশিষ্ট থাকে না। অন্যদিকে স্বামীর ওপর রয়েছে ঋণের বোঝা। এমন পরিস্থিতিতে নিজের স্বর্ণের যাকাত কীভাবে আদায় করবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তাঁর প্রশ্ন।

ওই নারী জানতে চেয়েছেন, তাঁর কাছে থাকা ১২ ভরি স্বর্ণের মধ্যে ৭.৫ ভরি নিজের কাছে রেখে বাকি স্বর্ণ নাবালেগ সন্তানদের মালিকানায় দিয়ে দিলে যাকাতের হিসাব কীভাবে হবে? সন্তানদের এখনো প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় তাঁদের নামে স্বর্ণের মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়েও তিনি জানতে চেয়েছেন।

এ বিষয়ে আলেমদের দেওয়া মতামতে বলা হয়েছে, যাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং এটি সম্পদের ওপর নির্ধারিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। কারও কাছে নেসাব পরিমাণ যাকাতযোগ্য সম্পদ থাকলে নির্ধারিত নিয়মে তার যাকাত আদায় করা ফরজ।

স্বর্ণ থাকলে আর্থিক অসচ্ছলতার অজুহাত প্রযোজ্য নয়

আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ওই নারীর কাছে থাকা ১২ ভরি স্বর্ণের ওপর যাকাত ফরজ হলে স্বর্ণের ২.৫ শতাংশ যাকাত হিসেবে আদায় করতে হবে। যাকাত দেওয়ার জন্য অন্য কোনো সম্পদ বা নগদ অর্থ থাকা বাধ্যতামূলক নয়। চাইলে স্বর্ণের পরিবর্তে তার সমমূল্যের অর্থ দিয়েও যাকাত আদায় করা যায়।

এ কারণে সংসারের খরচ মেটানোর পর হাতে টাকা না থাকলেও স্বর্ণের মালিক হওয়ার কারণে যাকাতের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। যাকাতের অর্থ ওই স্বর্ণের নির্ধারিত অংশ থেকেই আদায় করা সম্ভব।

নাবালেগ সন্তানদের স্বর্ণের মালিক বানালে কী হবে?

প্রশ্নের উত্তরে আলেমরা বলেন, ওই নারী যদি বাস্তবেই তাঁর সন্তানদের নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণ দিয়ে দেন এবং সন্তানরা তার প্রকৃত মালিক হয়ে যায়, তাহলে সেই স্বর্ণ আর মায়ের মালিকানায় থাকবে না। তবে শুধু কাগজে-কলমে বা নামমাত্র মালিকানা দেখিয়ে যাকাতের দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

যদি সন্তানদের প্রকৃত মালিকানা দেওয়ার পর মায়ের কাছে ৭.৫ তোলা বা তার বেশি স্বর্ণ অবশিষ্ট থাকে, তাহলে প্রদত্ত মতামত অনুযায়ী তাঁর ওপর যাকাতের দায়িত্ব বহাল থাকবে। অন্যদিকে, নিজের কাছে ৭.৫ তোলার কম স্বর্ণ থাকলে এবং নেসাব পূর্ণ করার মতো অন্য কোনো যাকাতযোগ্য সম্পদ না থাকলে তাঁর ওপর যাকাত ফরজ হবে না।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সন্তানদের প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু যাকাত থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে স্বর্ণের মালিকানা পরিবর্তনের ভান করলে যাকাতের বিধান থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে না।

যাকাত আদায়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ

আলেমদের বক্তব্যে যাকাতকে সম্পদের পবিত্রতা ও অসহায় মানুষের অধিকার আদায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিধান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে যাকাত আদায়ে অবহেলা না করে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী হিসাব সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে বাস্তবে স্বর্ণের মালিকানা হস্তান্তর, নেসাব গণনা এবং অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের হিসাবের ক্ষেত্রে বিস্তারিত পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি। এ ধরনের বিষয়ে নিজের সম্পদের পূর্ণ হিসাব নিয়ে নির্ভরযোগ্য মুফতি বা আলেমের কাছ থেকে সরাসরি ফতোয়া নেওয়া উত্তম।

0 Response to "১২ ভরি স্বর্ণ থাকলে কত টাকা যাকাত দিতে হবে? নাবালেগ সন্তানকে স্বর্ণ দিলে কী বিধান"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন